আমার শহরের শিরায় শিরায়
আজও,
চলাচল করে অনুমোদিত নিঃস্বাস।
আমার শহরের প্রতিটি মুখ
যেন এক একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি,
নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে
নিজেকেই বৈধতা দেয়।
আমরা যে ভদ্রতা শিখেছি,
তা বোধহয় আসলে
এক সুদীর্ঘ গণকবরের স্থাপত্য।
যে স্থাপত্যে প্রতিবাদের হাড়
সযত্নে চুনকাম করা থাকে,
আর বিবেককে শেখানো হয়
কীভাবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
মিথ্যে বলতে বলতে,
অন্ধ হতে হয়।
এই শহরের প্রতিটা মোড়ে
কিছু অদৃশ্য জল্লাদ
মানুষের উচ্চতা মাপে।
যারা একটু বেশি বেড়ে ওঠে,
তাদের স্বপ্নের হাঁটু ভেঙে দেওয়া হয়।
আর যারা মাথা নিচু করে চলে,
তাদের মাথার উপর কখনও হেঁটে যাওয়া হয়,
কখনও আবার
করুণা রঙের পতাকা গুঁজে দেওয়া হয়।
এই সমাজ জানে,
ক্ষুধার থেকেও বিপজ্জনক –
‘প্রশ্নচিহ্ন’।
তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ে
উত্তরের চাষ হয়,
আর প্রশ্নের, বলিদান।
আমরা আমাদের অবশিষ্ট সততা
বিক্রি করি
এক মুঠো নিরাপত্তার বিনিময়ে।
ঠিক যেমন এক কবি
কলমের নিব ভেঙে
নিজের জিহ্বাকে নির্বাসন দেন,
পাছে শব্দেরা রাষ্ট্রদ্রোহী হয়।
আমাদের এই কারাগারে দেওয়াল নেই,
জানালা আছে কেবল।
আমরা স্বেচ্ছায় তাকিয়ে থাকি
সেই জানালার বাইরে,
বাইরে দেখি আবহমান সময় –
আর ভাবি বুঝি
এই তাকিয়ে থাকতে পারাটাই স্বাধীনতা।
রাতের অন্ধকারে
যখন সমাজ তার প্রসাধন মুছে ফেলে,
তখন দেখা যায় –
সভ্যতার গায়ে হায়েনার আঁচড়,
আইনের নখে জমে থাকা রক্ত,
আর ইতিহাসের বালিশের নিচে
ঘুমিয়ে থাকা হাহাকার।
এখানে অন্ধকারের পতন হয়না,
শুধু তার প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে
ভোর হয়।
মানুষ আবারও শিখে ফেলে
কিভাবে কারাগারকে আশ্রয়,
শৃঙ্খলকে অলঙ্কার,
আর চক্রব্যূহকে,
পথ বলে বিশ্বাস করতে হয়।

Leave a comment