স্পর্ধা

উৎস থেকে মোহনা
গন্তব্য লিখেছে এক অদৃশ্য শাস্ত্র।
অবশ্য,
নদীরও স্মৃতিভ্রংশ হয় –
সে মাঝপথে বালুচরে হারিয়ে যায়,
নিজের জলেই ডুবে যায় নিজের মানচিত্র।

জীবনের এই ঈশান কোণ,
যাকে আমরা ভবিষ্যৎ বলে ডাকি,
সেখানে কেবল কুয়াশা নয়,
থাকে অপেক্ষারত অসমাপ্ত বাক্য।
আজ যে ঘুমোতে যায়
আগামীর পরিকল্পনা বুকে,
সে জানে না,
সে জানে না তার সমস্ত আগামী
ইতিমধ্যেই অতীতের জন্য নির্ধারিত।

অথচ কী আশ্চর্য!

মানুষ ঘর বাঁধে –
ইটের পরে ইট সাজিয়ে
স্থায়িত্বের এক পৌরাণিক কাহিনি রচনা করে,
যদিও তার নিজ অবয়ব, কালের ভারে ভগ্নমন্দির।

আমরা যাপন করি এমন,
যেন অনন্তকাল আমাদের হাতে ইজারা দেওয়া।
রাতের গভীরে,
সমস্ত শব্দ তাদের মুখোশ খুলে রাখে,
জানান দেয়
এই পৃথিবীর প্রকৃত ধর্ম স্থায়িত্ব নয়,
ক্ষয়।
সময় ক্ষয় হয়,
আকাশ ক্ষয় হয়,
সভ্যতা ক্ষয় হয়,
ঈশ্বর ধারণাও যুগান্তরে পরিধান বদলায়-
ক্ষয়েই সাতত্য বর্তমান।

মানুষের বিরহ মৃত্যু নয়।
মানুষের বিরহ নিয়তির অজ্ঞেয় সন্ধিক্ষণ –
ঠিক কোন মুহূর্তে, মুহূর্তরা শেষ হচ্ছে।
প্রতিটি ইতি, বিদায় নেয় সাধারণের পরিচয়ে।
তবুও,
মানুষের অসাধারণ স্পর্ধা।
মহাবিশ্ব যখন প্রতিক্ষণে
ঢং ঢং করে অনিশ্চয়তার জানান দেয়,
মানুষ তখন জবাব দেয় –
“তবুও আমি ভালোবাসব।”

হয়তো,
হয়তো এই একটিমাত্র বাক্যেই বেঁচে আছে সভ্যতা।
নিশ্চয়তায় বীরত্ব নেই।
বীরত্ব সেখানে,
যেখানে অনন্ত তমসার পথে,
কেউ এক মুঠো আলো হাতে নিয়ে বলে,
“দিগন্তের কাছে পথ ভিক্ষা চাই না;
আমার গমনেই হোক পথের উন্মেষ।“

Leave a comment