রাষ্ট্র বারবার প্রমাণ করে –
বাস্তবতা ক্ষণস্থায়ী,
বিজ্ঞপ্তি চিরন্তন।
চাকরি নেই,
কিন্তু কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান আছে।
জল নেই,
কিন্তু জলসম্পদ মন্ত্রক আছে।
ভবিষ্যৎ নেই,
বাঁধানো মলাটে একটি ভিশন ডকুমেন্ট আছে।
গণতন্ত্রও প্রশংসার দাবি রাখে।
পাঁচ বছর অন্তর
মানুষ ভাবে,
সে গুরুত্বপূর্ণ।
তার আঙুল গুরুত্বপূর্ণ।
তার আঙুলের ছাপ গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
তারপর পাঁচ বছরের জন্য
তার মতামত সযত্নে,
কাঁচের আলমারিতে তুলে রাখা হয় –
জাতীয় সম্পদ কিনা!
সমাজও কম উদার নয় –
আমরা সবাই রাজা।
আমাদের
সিংহাসন আছে,
পতাকা আছে,
ক্রোধ আছে।
কে কী ভাববে,
কী বলবে,
কী বিশ্বাস করবে –
স্বাধীনতা আছে।
শুধু নিশ্চিত হতে হয়,
অন্য রাজারা কী ভাবছে।
মানুষ বড়োই সচেতন।
একসময় মতামত তৈরি হতো,
এখন মতামত জন্মায়।
তারপর তার উপযুক্ত ইতিহাস খোঁজা হয়,
উপযুক্ত তথ্য খোঁজা হয়,
প্রয়োজনে,
উপযুক্ত শত্রুও খোঁজা হয়।
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ অনস্বীকার্য।
পৃথিবীময় ঘটনা,
কোনটিতে উদ্বিগ্ন হবে
সাধারণ মানুষে জানেনা।
সৌভাগ্যবশত,
সেই দায়িত্বও এখন
বিশেষজ্ঞদের হাতে।
বাস্তবতা প্রতিদিনই ঘটে।
কিন্তু গ্রহণযোগ্য বাস্তবতা নির্মিত হয়।
দেশে ঐক্যও বেড়েছে।
আগে মানুষ
কয়েকটি বিষয় নিয়ে একমত হতে পারত।
সেই দুর্বলতা আর নেই।
দুর্নীতি বিষয়টিও
অযথা বদনাম কুড়িয়েছে।
দুর্নীতি বড়োই অমায়িক –
সে ভাগ করে খায়।
দালাল খায়।
মধ্যস্থতাকারী খায়।
কমিটি খায়।
তদন্ত খায়।
ফাইল খায়।
নোটশিট খায়।
অবশেষে মৌচাকের গভীরে,
মক্ষীরাণীও খায়।
একটি টাকার
এত সামাজিক ব্যবহার –
তার হিসাব অর্থনীতির বইতেও নেই।
রাজাদের,
অযথা দোষ দেওয়া হয়।
তাঁরা কেবল স্বপ্ন বিক্রি করেন।
এবং স্বপ্নের বাজারে
চাহিদা সরবরাহের থেকে বেশি।
নির্বাচন আসে।
স্বপ্ন বদলায়।
স্লোগান বদলায়।
পোস্টারের রং বদলায়।
শুধু ক্রেতারা,
বিশ্বাসের পুরোনো রসিদগুলো
ফেলে দিতে ভুলে যায়।
সভ্যতা অনেক দূর এগিয়েছে।
এখন আর বই পোড়ানোর আগুন জ্বালাতে হয় না।
আগুনের চেয়ে,
অ্যালগরিদম অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
লেখককে কারাগারে পাঠানোরও প্রয়োজন নেই।
শুধু এমন এক আবহাওয়া তৈরি করো
যেখানে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত,
কিন্তু কোনও প্রশ্নের জন্ম হয় না।
ধীরে ধীরে
নীরবতা ভদ্রতা হয়,
অনাগ্রহ প্রজ্ঞা হয়,
আর চিন্তাহীনতা
সামাজিক দক্ষতা।
ধোঁয়াও নেই,
ছাইও নেই,
সঙ্গে পাঠকটিও নেই।
রাষ্ট্র,
সমাজ,
বাজার,
মতাদর্শ,
নাগরিক –
সকলের যৌথ প্রচেষ্টায়
এমন এক দক্ষ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে,
যেখানে প্রত্যেকের একটি স্থান আছে।
প্রতিটি মানুষের জন্য
একটি নির্দিষ্ট সারি আছে।
সেখানে দাঁড়িয়ে
সে স্বাধীনভাবে অপেক্ষা করতে পারে।
স্বাধীনভাবে ধৈর্য ধরতে পারে।
স্বাধীনভাবে আশা করতে পারে।
স্বাধীনভাবে হতাশ হতে পারে।
গণতন্ত্রের এই অপার সুযোগের মধ্যে
গন্তব্য জানার মতো ক্ষুদ্র অধিকার
তাকে ভাবায় না।
একসময়
সারিতে দাঁড়িয়ে থাকাটাই
গন্তব্য বলে মনে হতে শুরু করে।

Leave a comment